সহিহ আকিদা
নামাযের ভিতরে আল্লাহর হাবীবের তা’জিমই আল্লাহর বন্দেগী নামাযের ভিতরে আল্লাহর হাবীবের তা’জিমই আল্লাহর বন্দেগী
নামাযের ভিতরে আল্লাহর হাবীবের তা’জিমই আল্লাহর বন্দেগী ===================================== باب من دخل ليؤم الناس فجاء الامام الاول فتاخر الاول اولم يتاخر جازت صلاته فيه عائشة... নামাযের ভিতরে আল্লাহর হাবীবের তা’জিমই আল্লাহর বন্দেগী

নামাযের ভিতরে আল্লাহর হাবীবের তা’জিমই আল্লাহর বন্দেগী
=====================================
باب من دخل ليؤم الناس فجاء الامام الاول فتاخر الاول اولم يتاخر جازت صلاته فيه عائشة عن النبى صلى الله عليه وسلم
পরিচ্ছেদ: কোন ব্যক্তি লোকদের ইমামতি করার জন্য সামনে গেলে যদি প্রথম ইমাম এসে পড়েন তবে পূর্ববর্তী ইমাম পিছনে আসুক বা না আসুক, তাঁর নামায জায়েয হবে। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد الله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن ابى حازم بن دينار عن سهل بن سعد الساعدى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ذهب الى بنى عمرو بن عوف ليصلح بينهم فحانت الصلوة فجاء المؤذن الى ابى بكر فقال اتصلى للناس فاقيم قال نعم فصلى ابو بكر فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس فى الصلوة فتخلص حتى وقف فى الصف فصفق الناس وكان ابوبكر لايلتفت فى صفوته فلما اكثر الناس التصفيق التفت فراى رسول الله صلى الله عليه فاشار اليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ان امكث مكانك فرفع ابوبكر يديه فحمد الله على ما امره به رسول الله صلى الله عليه وسلم من ذلك ثم استاخر ابو بكر حتى استوى فى الصف وتقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى فلما انصرف قال يا ابا بكر ما منعك ان تثبت اذا امرتك فقال ابو بكر ما كان لابن ابى قحافة ان يصلى بين يدى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم مالى رأيتكم اكثر ثم التصفيق من نابه شئ فى صلاته فليسبح فانه اذا سبح التفت اليه وانما التصفيق للنساء. (بخارى شريف ۱/۹۴)
ভাবার্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ….. ‘হযরত সাহাল ইবনে সা’দ সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- নিশ্চয় একদা রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনে আউফ গোত্রের একটি বিবাদ মিমাংসার জন্য তাদের বস্তিতে তাশরীফ নিয়েছিলেন, এদিকে নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তখন মোয়াজ্জিন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গিয়ে অবস্থা ব্যক্ত করে বললেন, আপনি জামায়াত পড়াইয়া নিন। এতে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্মতি জ্ঞাপন করে বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। তখন আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু ইমাম হয়ে নামায আরম্ভ করলেন। এমতাবস্থায় রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় তাশরীফ আনলেন, যখন সাহাবায়ে কেরাম নামাযরত অবস্থায় ছিলেন। আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের কাতারগুলো অতিক্রম করে প্রথম কাতরে এসে দাঁড়ালেন, সে সময় (হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূলেপাকের আগমন অবগত করানোর জন্য) কিছু সংখ্যক মুসল্লী (সাহাবায়ে কেরাম) হাতের উপর হাত মেরে শব্দ করলেন।
(উল্লেখ্য যে) হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযরত অবস্থায় কোন দিকে ফিরে তাকাতেন না। কিন্তু অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরাম নামাযরত অবস্থায় যখন হাততালি দিতে লাগলেন তখন তিনি (আবু বকর) ফিরে তাকিয়ে আল্লাহর হাবিবকে দেখতে পেলেন। (এবং তৎক্ষণাৎই তিনি পিছনের দিকে সরে যেতে লাগলেন)
(এমতাবস্থায়) রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (আবু বকরকে) নিজের অবস্থানে স্থির থাকতে ইশারায় নির্দেশ দিলেন। রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইশরার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ দুইহাত উত্তোলন করে আল্লাহপাকের প্রশংসা করে পিছনে ফিরে প্রথম কাতারে এসে দাঁড়ালেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে গিয়ে ইমামতি করে নামায আদায় করলেন। নামায শেষ করে তিনি বললেন হে আবু বকর! আমার নির্দেশ পালনে কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে বললেন, আবু কুহাফার পুত্রের জন্য আল্লাহর হাবিবের সামনে দাঁড়িয়ে (নিজে ইমাম হয়ে) নামায আদায় করা শোভা পায় না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামগণের উদ্দেশ্যে বললেন- আমি তোমাদেরকে (নামাযের ভিতরে) হাতে তালি দিতে দেখলাম, ব্যাপার কি? শোন! নামাযের মধ্যে যদি কাউকে কোন কিছু থেকে ফিরাতে হয় তাহলে (পুরুষগণ) ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। সুবহানাল্লাহ বললেই তার দিকে দৃষ্টি দেওয়া হবে। আর হাতে তালি দেওয়া তো মহিলাদের জন্য। (কেননা মহিলাদের কণ্ঠস্বর বেগানা পুরুষদের শুনানো অনুচিত।’ (বুখারিশরীফ ১/৯৪ পৃ.)

ব্যাখ্যা: উপরোক্ত হাদিসশরীফ দ্বারা কয়কটি বিষয় অবগত হওয়া গেল-
১. নামাযরত অবস্থায় সাহাবায়ে কেরামগণ রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেয়াল তা’জিমের সাথে ইচ্ছা করেই করেছেন। কারণ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাতার ভেদ করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম নামাযরত অবস্থায় কাতার ফাঁক করে দিয়েছিলেন যাতে সামনে অগ্রসর হওয়া সহজ হয়।
২. নামাযের ভিতরে ইচ্ছা করে তা’জিমের সাথে রাসূলেপাকের খেয়াল করাই সাহাবায়ে কেরামগণের আক্বিদা ও আমল। এজন্যই তো হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ ইমামতির স্থান ছেড়ে পিছনের কাতারে স্বেচ্ছায় তা’জিম রক্ষার জন্য এসে দাঁড়ালেন এবং নামাযের ভিতরেই নিজের ইমামতি স্থগিত করে আল্লাহর হাবীবকে ইমামতি দিয়ে দিলেন, আর আল্লাহর হাবিবও স্বেচ্ছায় ইমামতি করে নামায সমাপন করলেন।
দেখুন আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথমে ছিলেন ইমাম, আল্লাহর হাবিব নামাযের জামায়াতে আসার দরুণ নিজে ইমামতি ছেড়ে আল্লাহর হাবীবকে ইমামতি দিয়ে দিলেন সুবহানাল্লাহ! দেখলেন তো নামাযের ভিতরে সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর হাবীবকে কিভাবে স্বেচ্ছায় তা’জিম করলেন।
এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো- নামাযের ভিতরে আল্লাহর হাবীবের তা’জিমই আল্লাহর বন্দেগী।
৩. সুতরাং যারা বলে নামাযে ইচ্ছা করে তা’জিমের সাথে আল্লাহর রাসূলের খেয়াল করলে মুশরিক হবে এবং অনিচ্ছায় খেয়াল এসে পড়লে যে রাকাআতে খেয়াল আসল এ এক রাকাতের স্থলে চার রাকাআত নফল নামায আদায় করতে হবে।
এ রকম বিভ্রান্তিকর ফতওয়া দ্বারা সাহাবায়ে কেরামগণ মুশরিক সাব্যস্থ হয়ে যান। (নাউজুবিল্লাহ) যা ইসলামবিরোধী আক্বিদা।
এরূপ ঘৃণ্য ফতওয়া দিয়েছেন মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী জখিরায়ে কেরামত ১/২৩১ পৃষ্ঠা, বাংলা জখিরায়ে কেরামত ১ম খ- ২৯-৩০ পৃষ্ঠা। সৈয়দ আহমদ বেরলভীর মলফুজাত এবং মাওলানা ইসমাঈল দেহলভীর লিখিত কিতাব সিরাতে মুস্তাকিম ১৬৭-১৬৮ পৃষ্ঠা।